বিশ্বজুড়ে চিন্তায় চিন্তায় অসুস্থ ২০০ কোটি মানুষ

বিশ্বজুড়ে চিন্তায় চিন্তায় অসুস্থ ২০০ কোটি মানুষ


তথ্য ছবি অনলাইন থেকে সংগৃহীত

বিশ্বজুড়ে মাইগ্রেন থেকে মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ, ডিমেনশিয়া থেকে পারকিনসনস কিংবা চিন্তাজনিত মাথাব্যথা বাড়ছে। এ
রোগগুলোসহ ৩৭টি স্নায়বিক রোগ এখন বিশ্বব্যাপী অসুস্থ স্বাস্থ্যের প্রধান কারণ।
২০২১ সালে সর্বাধিক প্রচলিত স্নায়বিক ব্যাধিগুলোর মধ্যে সবার ওপরে ছিল চিন্তাজনিত মাথাব্যথা। সে সময় ২০০ কোটি
মানুষ ভুগেছে এ রোগে।

চিকিৎসা বিজ্ঞানের সাময়িকী ল্যানসেটে প্রকাশিত একটি সমীক্ষায় এ তথ্য বলা হয়েছে।
সমীক্ষায় বলছে, আগের তিন দশকে এ ধরনের রোগী ও তার কারণে মৃত্যুর সংখ্যা বিশ্বজুড়ে ১৮ শতাংশ বেড়েছে। এর মধ্যে
সবচেয়ে বেশি বেড়েছে চিন্তাজনিত মাথাব্যথা।
গ্লোবাল বার্ডেনের গবেষণার তথ্য বিশ্লেষণ করে ল্যানসেট বলছে, ২০২১ সালে বিশ্বজুড়ে চিন্তাজনিত মাথাব্যথায় ভোগা
মানুষের সংখ্যা ছিল ২০০ কোটির বেশি।

গ্লোবাল বার্ডেনের তথ্য বলছে, ২০২১ সালে বিশ্বজুড়ে ৩৪০ কোটি মানুষ স্নায়ুতন্ত্রের রোগ নিয়ে বসবাস করেছে বা লড়াই
করেছে। ওই বছর বিশ্বে ১ কোটি ১১ লাখ মানুষ মারা গেছে ওই ব্যাধিগুলোতে আক্রান্ত হয়ে।
গবেষকরা বলেছেন, বৈশ্বিক জনসংখ্যার বৃদ্ধি এবং উচ্চতর আয়ু, সেই সঙ্গে দূষণ, স্থূলতা এবং খাদ্যের মতো পরিবেশগত,
বিপাকীয় এবং জীবনযাত্রার ঝুঁকির কারণগুলোর সংস্পর্শে বৃদ্ধির কারণে স্নায়ুতন্ত্রের রোগ বাড়ছে।
যুক্তরাজ্যের ব্রেইন রিসার্চ ইউকের পরিসংখ্যানমতে, দেশটিতে ছয়জনের মধ্যে একজন স্নায়বিক রোগে আক্রান্ত।

এছাড়া দেশটির ২৬ লাখের বেশি মানুষ আঘাতজনিত মস্তিষ্কের রোগ নিয়ে বেঁচে আছে। দেশটিতে ডিমেনশিয়ায় আক্রান্ত
রোগীর সংখ্যা ৯ লাখের বেশি। ২০৩০ সালের মধ্যে তা ১০ লাখ ছাড়িয়ে যাবে।
ল্যানসেট বলছে, গত কয়েক বছর ধরে বিশ্বব্যাপী সবচেয়ে ভয়ংকর রোগ ছিল মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ বা স্ট্রোক। এরপর ছিল
মেনিনজাইটিস, মৃগীরোগ ও আলঝেইমারের মতো রোগ।
এছাড়া অকাল জন্ম নেওয়া শিশুদের স্নায়বিক জটিলতা, ডায়াবেটিস, অটিজম এবং স্নায়ুতন্ত্রের ক্যানসারের কারণেও
বিপুলসংখ্যক মানুষ ভুগেছে বিশ্বজুড়ে।
সাময়িকীটি বলছে, ২০২১ সালে সর্বাধিক প্রচলিত স্নায়বিক ব্যাধিগুলোর মধ্যে সবার ওপরে ছিল চিন্তাজনিত মাথাব্যথা। সে
সময় ২০০ কোটি মানুষ ভুগেছে এ রোগে। এ ছাড়া ওই বছর ১১ লাখ মানুষ মাইগ্রেনে ভুগেছে।
গবেষণায় দেখা গেছে, এ ধরনের রোগগুলোতে সবচেয়ে বেশি ভোগে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোর মানুষ। বিশ্বজুড়ে এসব
রোগে ভোগাদের ৮০ শতাংশই নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোর। তবে সবচেয়ে খারাপ অবস্থা পশ্চিম এবং মধ্য সাব-
সাহারান আফ্রিকা অঞ্চলে। ওই অঞ্চলগুলোতে মৃত্যুর হার বিশ্বব্যাপী গড়ের চেয়ে পাঁচগুণ বেশি।
গবেষক দলের প্রধান ইনস্টিটিউট ফর হেলথ ম্যাট্রিকস অ্যান্ড ইভালুয়েশনের ড. জেমি স্টেইনমেটজ বলেন, স্নায়ুতন্ত্রের
সমস্যাগুলো কার্যকরভাবে সমাধান করতে হবে। সাশ্রয়ী মূল্যের প্রতিরোধ, চিকিৎসা, পুনর্বাসন দরকার এসব রোগীর।
এজন্য অবশ্য সাংস্কৃতিকভাবেও পদক্ষেপ নিতে হবে।
যুক্তরাজ্যের আলঝেইমার্স রিসার্চ সেন্টারের প্রধান ড. লিয়া মুরসালিন বলেন, এ পরিসংখ্যানগুলো সত্যিই উদ্বেগজনক এবং
জরুরি পদক্ষেপ না নিলে ভবিষ্যতে অবস্থা আরও খারাপ হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *